অটিজম শিশুর সঠিক খাদ্যতালিকা: কী খাওয়াবেন এবং কোন খাবারগুলো পরিহার করবেন?

👁 ৫০৬ বার পড়া হয়েছে

অটিজম আক্রান্ত শিশুর বিকাশ, মেজাজ ও আচরণের সাথে তাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাকস্থলী ও মস্তিষ্ককে একে অপরের পরিপূরক বলা হয়, যাকে পেট ও মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ বা ‘Gut-Brain Axis’ বলা হয়। পেট ভালো না থাকলে বা ভুল খাবার খেলে শিশুর মস্তিষ্কে প্রদাহ তৈরি হয়, যার ফলে শিশুর চঞ্চলতা, অস্থিরতা ও তীব্র অতিরিক্ত রাগ ও কান্নাকাটি বৃদ্ধি পায়।

অনেকেই জানেন না যে প্রতিদিনের পরিচিত কিছু খাবার অটিস্টিক শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে, আবার কিছু পুষ্টিকর খাবার শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও দৃষ্টি সংযোগ বৃদ্ধিতে জাদুকরী ভূমিকা রাখতে পারে।


অটিজম শিশুর যে খাবারগুলো সম্পূর্ণ পরিহার করা উচিত

  1. গ্লুটেনযুক্ত খাবার (গম ও আটা-ময়দা): গম, আটা, ময়দা, সুজি, বিস্কুট, পাউরুটি ও চাউমিনে থাকা ‘গ্লুটেন’ নামক প্রোটিন অটিস্টিক শিশুর সংবেদনশীল পেট সহজে হজম করতে পারে না। এটি মস্তিষ্কে অস্থিরতা ও অবাধ্যতা তৈরি করে।
  2. কেসিন বা গরুর দুধের তৈরি খাবার: গরুর দুধ, মিষ্টি, পনির ও প্যাকেটজাত গুঁড়ো দুধে থাকা ‘কেসিন’ প্রোটিন পেটে গ্যাস ও অস্বস্তি তৈরি করে এবং শিশুর রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
  3. সাদা চিনি ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার: অতিরিক্ত মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি ও চকোলেট খেলে শিশুর রক্তে সুগার দ্রুত বেড়ে যায়, যা শিশুকে অতিরিক্ত চঞ্চল করে তোলে।
  4. প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স ও ফাস্টফুড: চিপস, চানাচুর, কোমল পানীয় এবং কৃত্রিম রঙ ও প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবার স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
  5. অতিরিক্ত সয়া ও নিম্নমানের তেল: বাজারে তৈরি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও নিম্নমানের তেল হজমে জটিলতা তৈরি করে।

অটিজম শিশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী পুষ্টিকর খাবার

খাদ্যের ধরণখাবারের তালিকাস্বাস্থ্যগত উপকারিতা
১. গ্লুটেন-মুক্ত শস্যলাল চালের ভাত, চিঁড়া, ওটস, সাবুদানা, ভুট্টা।হজমে অত্যন্ত সহজ এবং পেট সবসময় শান্ত রাখে।
২. ওমেগা-৩ যুক্ত দেশি মাছছোট দেশি মাছ, রুই, কাতলা, ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ।মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের দ্রুত সংযোগ ও দৃষ্টি স্বাভাবিক করে।
৩. তাজা দেশি মৌসুমি ফলপাকা পেঁপে, আপেল, কলা, পেয়ারা, ডালিম ও বেরি জাতীয় ফল।প্রাকৃতিক উপাদান মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করে।
৪. রঙিন শাকসবজিগাজর, মিষ্টি কুমড়া, ব্রকলি, লাউ, পেঁপে ও পালং শাক।প্রচুর আঁশ ও ভিটামিন পেটের সমস্যা দূর করে।
৫. দেশি ডিম ও ভালো চর্বিদেশি ডিমের কুসুম, খাঁটি সরিষার তেল, অলিভ অয়েল ও কাঠবাদাম।মস্তিষ্কের বিকাশ এবং হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বৈজ্ঞানিক সমাধান

“অটিস্টিক শিশুর সামগ্রিক চিকিৎসা কেবল বাহ্যিক যত্ন নয়; সঠিক খাদ্য নির্বাচন হলো সুস্থ মস্তিষ্কের মূল ভিত্তি। ক্ষতিকর প্যাকেটজাত খাবার পরিহার করে শিশুকে ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক খাবারে অভ্যস্ত করুন। সুষম পুষ্টি এবং নিরাপদ চিকিৎসার সমন্বয়ে শিশুর স্মৃতিশক্তি ও আচরণে দ্রুত পরিবর্তন আসে।”

— ডাঃ এম এ হক


চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো পরামর্শ বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য:
ভিজিট করুন আমাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজ অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন যোগাযোগ পেজ-এ।


লেখক: ডাঃ এম এ হক (Dr. M. A. Haque)

About Author:

ডাঃ এম এ হক

Leave Your Comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *